Friday, October 23Viral News

বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কিছু কথা

১ম কেসঃ
-“জানিস রাফি , ‌শুনলাম রাহাত সিনিয়র আপুর সাথে প্রেম করে।“
-“তোর কি সমস্যা !!!প্রেম করতেই পারে।সিনিয়র জুনিয়র সমস্যা নেই।”
২য় কেসঃ
-“জানিস ,আব্দুল্লাহ তার চেয়ে ২ ,১ বছরের বড় মেয়েকে নিকাহ করেছে।”
-“কি বলিস????এত্ত বড় মেয়েকে বিয়ে করেছে।হাহাহা।”
হ্যাঁ!এটাই হয়তো বাস্তবতা।এ সমাজ বিয়েকে কঠিন করতে করতে এমন অবস্থায় নিয়ে গিয়েছে সব গুলো দ্বারই বদ্ধ করে দিতে চাচ্ছে।
কোন মেয়ে, ছেলেকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে ঠিক আছে ,কিন্তু বিয়ের প্রস্তাব দিলেই সমস্যা।
কারণ,মেয়েরা নিকাহ এর প্রস্তাব দিবে এটা এ সমাজ ভাবতেই পারে না ।বৈধভাবে প্রস্তাব দেয়াটা সুন্নাহ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খাদিজা রাঃ নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
(অবশ্য কারো দ্বীনদারিতা দেখে নিশ্চিত হয়ে তবেই দেয়া উচিত ইস্তেখারা করে।ফেসবুকে ভুয়া দ্বীনদারও আছে ।সবাই যে ভুয়া তা বলছি না ,বলছি যাচাই করার কথা।)
কোন মেয়ে কথিত জুনিয়র ছেলের সাথে প্রেম করলে ঠিক আছে,কিন্তু কোন মেয়ে তার চেয়ে ২,১ বছরের ছোট কাউকে বিয়ে করলেই পিত্ত থলি যেনো জ্বলে উঠে!
কত্ত ভয়ংকর এ সমাজ।
বিয়েতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রী বাছাইয়ের ৪টা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উনি কি বলেছে বয়সের কথা?
নাহ ,বলেন নি।উনার প্রথম বিয়েই তো হয়েছিলো,উনার চেয়ে বেশি বয়সী খাদিজা রাঃ এর সাথে।
সাধারণত একজন মেয়ে বালেগা হওয়ার সাথে ভালোভাবে বিয়ের উপযুক্ততা লাভ করে ।
এখন কেউ যদি বয়সে ছোট কারো দ্বীনদারিতা দেখে মুগ্ধ হয়ে নিকাহ করে তাতে সমস্যা থাকে না সাধারণত।
কিন্তু বাধঁ সাধে সমবয়সী বা বেশি বয়সী মেয়ের সাথে নিকাহ করতে ইচ্ছুকদের সাথে।
ঠুংকো অজুহাত দেখায় এ সমাজ।
অথচ দ্বীনদারিতা ঠিক থাকলে যেকোন বয়সী মেয়েকেই বিয়ে করা যায়।
কারো ইচ্ছা হলে সে সমবয়সী কে বিয়ে করলো কেউবা ছোট কেউবা নিজ বয়সের চেয়ে বড় কাউকে নিকাহ করলো।
এটি তো হারাম নয়।
আপনাকে সমবয়সী বিয়ে করলে ঝগড়া হয় , আরো কত কি বলে বিয়ের পথ রুদ্ধ করতে চায়।কেনো ভাই?
ঝগড়া কি অন্য বয়সীদের মাঝে হয় না?
এটাই সৌন্দর্য।
বেশি বয়সী মেয়েকে বিয়ের কথা বললে ,সমাজ যথারীতি বলবে ,আরে এসব কইরো না।তার চাকর হয়ে থাকতে হবে ।আরো কত কি।সে তোমাকে কি বলে ডাকবে ….
থামুন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উদাহরণের চেয়ে উত্তম উদাহরণ আর নেই।
এবার বলতে পারেন ,এ যুগে কি এসব চলে?
উত্তর হলো ,চলে বিধায়ই এ সুন্নাহ দেখিয়ে গিয়েছেন।
দ্বীনদার হলে যেকোন বয়সী বিয়ে করা যায়।
দ্বীনদার না হলে অল্প বয়সী , বেশি বয়সী ,সমবয়সী করেও লাভ নেই।
আসলে পরিবর্তনটা আমরা যারা দ্বীনের পথে চলতে চাই তাদেরকেই করতে হবে।কষ্ট তবে অসম্ভব নয়।আল্লাহ সুবাহানাওয়াতায়ালা চাইলে কষ্টও হবে না ইনশা আল্লাহ্‌।
সমাজের সংস্কার প্রয়োজন।আসলেই প্রয়োজন।
মহান রব প্রদত্ত বিধানকে সমাজে পুনরায় প্রচলিত করতে বা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আমাদেরকেই
পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইত্তাকুল্লাহ…….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *